এই উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তবে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা ও তথ্যগুলো ইতিহাসনির্ভর। গল্পের নায়ক রাজীব হাসান পাটোয়ারী ওরফে হাসান পাটোয়ারী বাঙালি তরুণ কবি ও সাংবাদিক। উর্দুভাষী বিহারী তরুণী কিশোয়ারের প্রতি তার সর্বগ্রাসী ভালোবাসা জন্ম নিয়েছিলো নিকট-প্রতিবেশী হিসেবে। রাজীবের বিশ্বাস ছিল ‘ভিন্ন সংস্কৃতির মেয়েদের দিকেই ছেলেদের মন আকৃষ্ট হয় বেশি... প্রেম যত কঠিন ততই মধুর, ততই রোমাঞ্চকর!’ তাই, সহজলভ্য ভালোবাসার পাত্রীদের মনে ধরেনি। পাঁচ ইঞ্চি একটা কমন দেয়ালের এপাশে-ওপাশে তৈরি তাদের বাসাবাড়ি। পাশাপাশি বসত-করেও সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে রাজীবের কাছে মনে হতো কিশোয়ারদের বাসাটা পশ্চিম পাকিস্তান আর তাদেরটা পূর্ব পাকিস্তান। এমনি এক সমান্তরাল রূপকের আশ্রয়ে লেখা হয়েছে সেই দূরকে কাছে পাওয়ার অসেতুসম্ভব আকাক্সক্ষা পূরণের এই মর্মান্তিক উপাখ্যান, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি যার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে লেখকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা নায়কের বর্ণনায় অন্বিত-হওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধকালের অনেক বিশ্বস্ত চিত্র উঠে এসেছে। কিছু ব্যক্তির নাম সঙ্গত কারণে বদলে দিতে হয়েছে। আমাদের বড় লেখকদের যারা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস লিখেছেন তাদের কেউ সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্র্রহণ করেননি। ফলে, এই উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছে ভিতরকার বহু গোপনীয় সামরিক ও রাজনৈতিক তথ্য...
স্বপ্নকন্যার শেষ রজনী
আবিদ আনোয়ার
















