মেয়েরা কি পছন্দমতো বিয়ে করে না? নিশ্চয়ই করে। আজকাল পছন্দ করে বিয়ে করাই নিয়ম। বাবা-মায়ের ঠিক করা বিয়ে হওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। তাহলে শুচিতার বাবা-মা কেন মেয়ের পছন্দ করা পাত্রকে মেনে নিতে পারছে না? স্বধর্মের নয় বলেই কি? আধুনিক যুগের হলেও আমাদের সংস্কার বদলায়নি। ধর্মের বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষকেই কিছু না কিছু বাধ্যবাধকতায় ধরে না। ইচ্ছে করলেই সেই দায়িত্ব এড়ানো যায় না। কিন্তু কেন যায় না? কে বাধা দিচ্ছে? শুচির গলায় জেদ। বাইরে থেকে কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা বাঁধনে জড়িয়ে আছি। ধর্মের বিশ্বাসটা মানুষ নিজে লালন করে। বংশানুক্রমে। তাই-ই তাদের পরিচয়। সেই বিশ্বাসেই বিশ্বাসীদের মুক্তি। এই বাঁধন জোর করে ছেঁড়া যায় না। হ্যাঁ, কেউ কেউ বাঁধন ছেঁড়ে । খুব স্বার্থপর হলে তাই করে । কিন্তু মানুষ তো একা নয় কেউ। একজন মানুষ একা, কিন্তু তার রয়েছে অনেক সম্পর্কের বন্ধন। ধর্ম সেই বন্ধনগুলো স্পষ্ট করে দেয়। একটা দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে। সেই দায়বদ্ধতা অস্বীকার করার অর্থ আগের সব সম্পর্ক ছিন্ন করা। এটা খুব স্বার্থপরের কাজ। কিন্তু জীবনে একটা সময় আসে, হয়তো সবার না, কারো কারো, যখন স্বার্থের কথা না ভেবে উপায় থাকে না। শুচিতা কি শেষ পর্যন্ত স্বার্থপর হতে পেরেছিল? ধর্মের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্পর্কগুলো কীভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই উপন্যাসে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
শুচিতা
হাসনাত আবদুল হাই

















