লেখকের ভাষায় ছােট এ রচনাটি গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতাে। বহুদিন আগে কিনে রাখা রবীন্দ্র রচনাবলী পাঠ হবে প্রধান একটি কাজ, মৃত্যুর আগে, এমনই ভাবনা। নিয়ে দিনগুলাে তরতর করে পেরিয়ে যাচ্ছিল যখন। একদিন রৌদ্রোজ্জ্বল বারান্দায় ফুলগাছের টবে পানি দিতে দিতে মনে পড়ে গেল রবি আর নতুন বৌঠানের ছাদের বাগানে কত কত রুচিস্নিগ্ধ শব্দ, বাক্য, কথা, গান, সুখাদ্য ও তার সুরুচিসম্পন্ন পরিবেশনা। হঠাৎ তখনি, রবীন্দ্র যেন মুচকি হেসে বলে উঠল“ কি গাে মেয়ে, কি ভাবছ এতাে, লিখে ফেলাে’। লেখকের মনে পড়ল, হায়, সময় যে বয়ে চলছে, রবীন্দ্রপাঠ ও এই অপরূপ সুদর্শন মানুষটি, তার প্রেরণাদাত্রী নতুন বৌঠানকে এ কালের নারীর দু’পাতা রচনার অর্ঘ্যদানের সময়টি আজ, এ মুহূর্তে উপস্থিত। এখনি কাজটি করতে হবে, পাঠ ও রচনা- দু’টো কাজ সম্পন্ন করতে হবে দ্রুত, সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই। লেখক, আজকের একজন তরুণী, রবীন্দ্রের সাথে শুরু করেছে। এক কথােপকথন, যে কথােপকথনকে কেন্দ্রীভূত রাখতে হয়েছে, সচেতনভাবেই, রবীন্দ্রনাথের বিশেষ পর্বের বিশেষ কবিতা ও গ্রনে, সঙ্গে অবশ্যম্ভাবীরূপে নতুন বৌঠানের সঙ্গেও হয়েছে বিশেষ আলােচনা এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ উপনিষদ থেকে যেসব বাণীকে নিজের এবং অন্যের জীবনেও দৈনন্দিন জীবনের মালিন্যকে ধুয়ে মুছে শুচিস্নিগ্ধ পবিত্র হবার এবং অন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করতেন, সেসব বাণীর কয়েকটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন লেখক যিনি নিজেও দিনান্তে শয্যাগ্রহণের আগে নিজের মনকে দৈনন্দিন জীবন থেকে উঠে আসা ক্লেদ-গ্লানি থেকে মুক্ত করে শান্তি পাবার অনুশীলন করেন। এ বইতে রবীন্দ্র ও কাদম্বরী বৌঠানের। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। লেখক, একটি সুরুচির সীমারেখাকে মান্য করে এবং কোনােক্রমেই দু’জন বিশ্বখ্যাত নারী ও কবি-শিল্পীর সম্মান ক্ষুন্ন না করে। এ বইটিও একটি রবীন্দ্র-পাঠ, একটু ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন রূপে। বাস্তবিক, রবীন্দ্রনাথ আমাদের আহ্বান। করেছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন, নতুন নতুন রূপে তাঁকে, তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও শিল্প সম্ভারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এক একটি বিস্ময়কে উদঘাটন করতে তেমন একটি চেষ্টা এ বই।
top of page
১৫০.০০৳ Regular Price
১১২.৫০৳Sale Price
Socials
Related Books
bottom of page

















