ইন্দ্রিয়জাত মর্মর অনুভূতি নির্যাসসমেত যে বাণী নির্গত করে তা-ই কবিতা। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ এর চর্চাগত অস্তিত্ব সংরক্ষণ করে আসছে।
পরম পূজ্য এই বাণী যাকে আমরা কবিতা বলি, তার মর্মার্থ উদ্ঘাটনে পাঠককে হাতড়ে মরতে হয় প্রজ্ঞাসলিলে। পাঠক নিমজ্জিত হয় তার প্রিয় সেই উক্তিলোকে, যা সে লালন করে আসছে কাল থেকে কালান্তরে।
ফলশ্রুতিতে পাঠক ও কবি এবং কবিতা একই সীমারেখায় উপস্থিত হয়। বোধের সাগরে পাঠক ও কবি যখন একাত্ম হয় তখনই কবিতা হয়ে ওঠে সার্থক। কবি হয়ে ওঠেন সর্বজনীন। কবি সৃষ্টি করেন অমৃতলোকের কাব্যিক রস।
পাঠক যদি এই অমৃতরসের কিয়দংশ পান করতে পারে তবেই কবির সার্থকতা। ইচ্ছে নদী এমনই এক কবিতাগ্রন্থ। কবি ও শিক্ষক লিংকন দেব যাপিত জীবনের পরিযায়ী মনষ্ক্রিয়ার খণ্ডিত ভাবাংশগুলোকে একচ্ছত্র চিত্রকল্প গুচ্ছভুক্ত করেছেন।
শব্দের বিন্যাসে কবি কখনো নীরবতার ভাষা খুঁজেন, আবার কখনো উচ্চারণ করেন আবেগের গহিন সত্য। ইচ্ছে নদী শুধু কবিতার সংকলন নয়, এটি অনুভবের জগৎ। পাঠক যখন এই নদীতে ডুব দিবেন, হয়তো খুঁজে পাবেন নিজেরই হারিয়ে যাওয়া কোনো গল্প, কোন আকাক্সক্ষা কিংবা কোনো অমলিন ইচ্ছে।
প্রকৃত রসবোধসম্পন্ন পাঠক মাত্রই গ্রন্থটি পাঠে নিরাশ হবেন না, এমনটা নির্দ্বিধায় বলা চলে।
ইচ্ছে নদী
লিংকন দেব

















