হাস্যরসের সঙ্গে যখন যুক্ত হয় রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতার অনুষঙ্গ তখন জন্ম নেয় ‘শ্লেষাত্মক হাস্যরসিকতা’ যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ডার্ক হিউমার’। আমাদের কথাসাহিত্যে পাঠককে জোর-করে হাসানোর যে প্রবণতা দেখা যায় তা থেকে মুক্ত এই হাসির উপন্যাস। অথচ প্রায় প্রতিটি বাক্যেই লেগে আছে বুদ্ধিদীপ্ত হাসির উপাদান। এই উপন্যাসের নায়ক ধর্মান্তরিত এক মৃত ব্যক্তির আত্মা। অদৃশ্য আত্মার ‘গায়েবি আওয়াজের’ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি যেসব ব্যক্তিক-সামাজিক-রাজনৈতিক অন্যায়-অবিচার দূর করতে সচেষ্ট হয়েছেন তা হাস্যরসে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাদুবাস্তবতা হয়ে উঠেছে বাস্তবের বিশ্বস্ত চিত্রায়ণ। এই বিশ্বায়নের যুগে অন্তর্লীন বৈশ্বিক জটিলতাই জাতীয় জীবনের জটিলতার প্রকৃত উৎস। এই বিবেচনায় হাস্যরসের আড়ালে রচিত হয়েছে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পটভূমি। সমান্তরাল রূপক, প্রতীক ও জাদুবাস্তবতায় সমৃদ্ধ এই উপন্যাসের ভাষাভঙ্গি। প্রসঙ্গ তৈরির প্রয়োজনে যুক্ত হয়েছে দুই-দুইটি মজাদার প্রেমকাহিনিও...
দেবদূতের দেবতাগিরি
আবিদ আনোয়ার
















