দার্শনিক ফরহাদ মজহার বাংলাদেশে এখন জীবন্ত কিংবদন্তী। তাঁর যাপন, সৃষ্টিশীলতা, লড়াই ও নির্মাণ-সবদিক থেকেই। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও জ্ঞানগত উৎকর্ষতার তিনি অনন্য উদাহরণ। সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির যে কোনো ফ্রন্টে আগামী দিনের বাংলাদেশ তাঁকে মোকাবিলা করে এগুতে হবে, এটা এখন নিশ্চিত।
মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত আবির্ভাবের মধ্যে বেড়েওঠা প্রজন্মের তিনি একজন। যে সংকল্প, কল্পনা এবং আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ইস্পাত আর বারুদের গন্ধ মিশাতে হয়েছে তার তাৎপর্য এবং সম্ভাবনা সম্বন্ধে সবসময় ছিলেন সজ্ঞান। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার মধ্যে জীবন্ত ভাব, সংগ্রামের দাগ ও অর্জন সামনে রেখে গণমানুষের ঐক্যবোধের ক্ষেত্র বিকাশে প্রয়াসী হয়েছেন।
ফরহাদ মজহার বাংলাদেশের জন্মের ভেতর জনগোষ্ঠীর বদলে যাওয়া, আমাদের আত্মবিকাশের ইতিহাস চেতনা, লড়াই ও দ্বন্দ্ব সংঘাতের মধ্যে উঠে আসা প্রশ্নগুলো ক্রমাগত পরিচ্ছন্ন করেছেন। নিজের ভাষা ও ভাবের ঘরে বসেই মতাদর্শিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় চিন্তা এগিয়ে নেয়াকে প্রধান ভারকেন্দ্র গণ্য করেন। তাঁর লেখালেখি সেই লক্ষ্যেই। সেই দিক থেকে উত্তর অন্বেষা ও তৎপরতা সন্ধানে দিচ্ছেন যুগোপযোগী দিকনির্দেশনা। এই সংকলনভুক্ত লেখাগুলিই যার স্বাক্ষর।
পাঠক টের পাবেন প্রতিটি লেখায় কি পরিমাণে নবর্নব উন্মোচন, নতুন পাঠোদ্ধার, চিন্তার স্বচ্ছতা ও সাবলীল যুক্তি বিন্যাসে বর্তমান দুনিয়ায় দর্শনের সামনের সারির বিষয়গুলোকে সহজ করে হাজির করেছেন। তাঁর ভাবুকতা, পাণ্ডিত্য, অসাধারণ বিশ্লেষণী ক্ষমতার জোরে প্রতিটি লেখাই হয়ে উঠেছে পাঠকের সঙ্গে জীবন্ত কথোপকথন। ভাষাতত্ত্ব থেকে কাব্য বিচার, নৃতত্ত্ব থেকে শরীর দখলের ডাক্তারী তত্ত্ব, আধুনিকতার বর্ণবাদ এবং এখনকার জিহাদ আর সর্বোপরি ইয়াসমিন ও বেদের মেয়ে জোসনাকে আশ্রয় করে বাংলাদেশের কংক্রিট শ্রেণীসংগ্রামের বিচার।
নির্বাচিত প্রবন্ধ
ফরহাদ মজহার

















