‘দি আর্ট অব ওয়ার’ বা ‘যুদ্ধকলা’ হলো সামরিকবিদ্যা-বিষয়ক একটি প্রাচীন গ্রন্থ যেটা প্রাচীন চীনের ‘বসন্ত ও শরৎ’ যুগের শেষদিকে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে রচিত হয়েছিল। প্রাচীন চীনের সামরিক কৌশলবিদ সুনযিকে (প্রভু সুন) বইটি রচনার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এর তেরোটি অধ্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তেরো প্রকার দক্ষতা ও কৌশলকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বইটিকে যুদ্ধবিদ্যার ওপর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সর্বকালের সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেটা প্রাচ্য ও প্রতীচ্য উভয়ের সামরিক তত্ত্বকেই প্রভাবিত করে এসেছে।
গ্রন্থটি ১৭৭২ সালে প্রথমবারের মতো একটি ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল, যখন জাঁ জোসেফ মারি আমিওত নামক এক খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ফরাসি ভাষায় এটা অনুবাদ করেছিলেন। ইংরেজিতে একটি আংশিক অনুবাদের প্রয়াস চালানো হয়েছিল ১৯০৫ সালে, যখন একজন ব্রিটিশ সামরিক অফিসার এভেরার্ড ফার্গুসন ক্যালথ্রপ ‘দি বুক অব ওয়ার’ নামে বইটি প্রকাশ করেছিলেন। তবে ইংরেজি ভাষায় সম্পূর্ণ অনুবাদটি (টীকাসহ) প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১০ সালে লিওনেল জাইল্স-এর হাত ধরে।
বাংলাদেশে যেহেতু এর আগে বইটির নির্ভুল বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়নি, তাই বর্তমান অনুবাদক এটা বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করার জন্য দীর্ঘকাল একটি তাড়না অনুভব করে এসেছেন। ২০১৭ সালে গণচীনের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং চায়না’ ফেলো হিসেবে বেইজিং সফরের পর সেই আগ্রহ আরও ঘনীভূত হয়েছিল।
সুনযির আর্ট অব ওয়ার বা যুদ্ধকলা
হেলাল উদ্দিন আহমেদ

















